প্রান্তিক পেশাজীবী সম্প্রদায়ের উপর দেশভাগের প্রভাব ‘রাজকাহিনী' চলচ্চিত্রভিত্তিক পর্যালোচনা
DOI:
https://doi.org/10.66329/BAP.v68i2.10Abstract
চলচ্চিত্রকে ইতিহাস পর্যালোচনার একটি উৎস বলা যায়। ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্রে অতীতের সমাজ, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি রূপায়িত হয়, যা বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্যা সমাধানে অবদান রাখে। সৃজিত মুখার্জির 'রাজকাহিনী’ চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের উপর নির্মিত একটি জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবি, যেখানে দেশভাগের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত ও প্রভাব আলোকপাতের পাশাপাশি এই প্রেক্ষাপটে অবিভক্ত বাংলার সীমানায় গড়ে ওঠা একটি পতিতালয়ের উপর পড়া প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমান প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ‘রাজকাহিনী' চলচ্চিত্রকে একটি কেসস্টাডি হিসেবে ধরে বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর দেশভাগের নেতিবাচক প্রভাব পর্যালোচনা করা। প্রবন্ধটিতে ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় আন্তঃসম্পর্ক এবং সামাজিক ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশভাগের প্রভাব সম্পর্কিত বিদ্যমান জ্ঞানে এই প্রবন্ধের বিষয় ও ফলাফল নতুন আলো দেখবে। এতে ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগের প্রভাব কতটা গভীর ছিল তা পর্যালোচনার সুযোগ আসবে এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও যে দেশভাগের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পায়নি বরং বারংবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আবেগ, অনুভূতি, জীবন ও জীবিকার উপর আঘাত নিয়ে আসে তা ওঠে আসবে। এই প্রবন্ধে প্রাথমিক উৎস হিসেবে পত্রপত্রিকা, আর্কাইভাল দলিলপত্র এবং দ্বৈতয়িক উৎস হিসেবে দেশভাগের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র, রচিত গবেষণা গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুপম হায়াৎ রচিত পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সমালোচনা বইটির সাহায্যে বর্তমান প্রবন্ধে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন তাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া জ্যোতির্ময় বসু রচিত সাতচল্লিশের দেশভাগ এবং জয়া চ্যাটার্জীর Bengal Divided : Hindu Communalism and Partition, 1932-1947 গ্রন্থের সাহায্যে দেশভাগের ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র ও ইতিহাস চলচ্চিত্রকে বলা হয় সপ্তকলা। কাব্য, সংগীত, নৃত্য, স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং চিত্রের পরেই যে কলা সেটি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্র উনিশ শতকের আবিষ্কার এবং এর বিকাশ ও বিবর্তন এখনও চলছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ, সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক বাস্তবতা তুলে ধরাই চলচ্চিত্রের অন্যতম উদ্দেশ্য।