মুক্তিযুদ্ধের জনইতিহাস : আসামের বরাক উপত্যকার জীবন ও জনমত
DOI:
https://doi.org/10.66329/BAP.v68i2.12Abstract
উত্তর ভারতের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকা একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পালন করেছিল এক অনন্য ভূমিকা। আসামের করিমগঞ্জ হয়ে একাত্তরে তিন লক্ষ উদ্বাস্তু আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল এই উপত্যকায়। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয় পেয়েছিল সীমান্তবর্তী করিমগঞ্জে। জনসংখ্যার বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে করিমগঞ্জসহ সমগ্র বরাক উপত্যকা একাত্তরে মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক অনবদ্য ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল। বিপুল শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রণাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টিং বেস হিসেবে কাজ করেছিল ভারতের এই প্রান্তিক জনপদটি। রাতের পর রাত গুলির শব্দ, মর্টার শেলের আওয়াজ, ব্ল্যাক আউট, ট্রেঞ্চবাস প্রভৃতির মধ্যে প্রকৃতঅর্থে বরাকের মানুষ সেদিন জ্বালামুখের ওপরেই বসেছিলেন। কিন্তু তারা এই শহর ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরঞ্চ বিভিন্নভাবে অকুতোভয় বরাকবাসী এই মুক্তিসংগ্রামে যুক্ত হয়েছিলেন। অজানা, অচেনা অসংখ্য সাধারণ মানুষ সেদিন একাত্ম হয়েছিলেন পূর্ববাংলার টানে। চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিকেল স্টাফ, মেডিকেল, নার্সিং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্যসেবায়, তরুণ সম্প্রদায় মিছিল-মিটিং ও ত্রাণে, রাজনৈতিক কর্মীরা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে, প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সমগ্র বরাক একাত্ম হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বরাক উপত্যকার সিভিল সোসাইটির অন্যতম প্রতিনিধি অতীন দাশ বলেছিলেন, ‘এই এক অন্য রকম টান, বরাকের ইতিহাসে এই একাত্মতা, এই জোয়ার আর কখনো দেখা যায়নি'।