সন্দ্বীপের দিলাল রাজা : একটি ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
DOI:
https://doi.org/10.66329/BAP.v68i2.13Abstract
আনুমানিক প্রায় তিন হাজার বছর আগে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা যেখানে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশির সাথে মিলিত হয়েছে সেই সঙ্গমস্থলে পলি জমে-জমে গড়ে উঠেছিল এক বিশালায়তনের দ্বীপভূমি। পৃথিবীর অন্যতম পুরোনো ও সমৃদ্ধ এই দ্বীপের নাম ‘সন্দ্বীপ’। বিখ্যাত পরিব্রাজক সিজার ফেড্রিক এই দ্বীপকে অভিহিত করেছেন পৃথিবীর উর্বরতম স্থান হিসেবে। ঐতিহাসিক দিওদোরাস, মেগাস্থিনিস কিংবা টলেমির বর্ণনায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে গঙ্গা ও ভাগীরথী নদীর অববাহিকায় যে ‘গঙ্গারিডই’ বা ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ জনপদের বিবরণ পাওয়া যায়, ধারণা করা হয় তা সন্দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অথবা তারও আগে সন্দ্বীপে মানুষের অস্তিত্ব ছিল বলে অনুমান করা যায়। ফলে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সাথে সন্দ্বীপের ইতিহাসের রয়েছে মেলবন্ধন। উত্তরে বামনী নদী-নোয়াখালী ও বর্তমান ফেনী, পশ্চিমে হাতিয়া চ্যানেল, পূর্বে চট্টগ্রাম চ্যানেল ও চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণে সুবিস্তৃত উপসাগর। ষোলো শতকে রাজা টোডরমলের সময় সন্দ্বীপ, হাতিয়া এবং বামনী এই তিন অঞ্চলের সমন্বয়ে ‘সন্দ্বীপ পরগনা' গঠিত হয়েছিল। সন্দ্বীপ পরগনার আয়তন ছিল আনুমানিক ৬৩০ বর্গমাইল। ভৌগোলিক ও সামরিক অবস্থানের কারণে এই দ্বীপের রাজনৈতিক উত্থান- পতন ছিল নিয়ত পরিবর্তনশীল। সন্দ্বীপের রাজনৈতিক ইতিহাস বিবেচনায় এম আব্দুল হালিম ‘Dilal Raja, The King of Sundeep' প্রবন্ধে সন্দ্বীপ সম্পর্কে লিখেছেন— '...an island which has undergone greater revolution and more changes of dynasties than India herself”. লবণ ও জাহাজ-শিল্পের জন্য সন্দ্বীপ ছিল জগৎখ্যাত। বলা হয়ে থাকে নির্মাণ-খরচ কম হওয়ায় কনস্টান্টিনোপলের সুলতান মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে জাহাজ না বানিয়ে সন্দ্বীপ থেকে বানিয়ে নিতেন। তাছাড়া ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বছরে দুইশ' জাহাজ লবণ সন্দ্বীপ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতো।