ফজিলাতুন্নেসা : জীবন, সাহিত্য ও চিন্তাধারা
DOI:
https://doi.org/10.66329/BAP.v68i2.3Abstract
আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে পলাশী বিপর্যয়ের (১৭৫৭-এর ২৩শে জুন) মধ্যদিয়ে শেষ হয় ভারতে পাঁচ শতকব্যাপী মুসলমান শাসনব্যবস্থা। বাংলা-বিহার-ওড়িশা সুবার কার্যত সকল ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যাওয়ার অল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা ধীরে ধীরে কুক্ষিগত করে বেনিয়া লুটেরার দল। নতুন শাসক ইংরেজরা এদেশে প্রচলিত ফার্সি ভাষার বিলোপসাধন থেকে আরম্ভ করে অবিচ্ছিন্নভাবে আঘাত হেনেছে সর্বস্তরে। পরবর্তী সময়ে একের পর এক নানা বিষয়ে মুসলমানদের সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। সদ্য ক্ষমতা হারানো মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ তাই শাসক ইংরেজদের ঘৃণার চোখে দেখে এসেছে বরাবর এবং মেনে নিতে পারেনি তাদের কৃষ্টি-কালচারও; অপর দিকে ইংরেজি ভাষা থেকে শুরু করে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রতিও মুখ ফিরিয়ে থেকেছে বহুদিন। কিন্তু এদেশীয় প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন নতুন শাসকের সংস্পর্শে এসে ইংরেজি ভাষাসহ পাশ্চাত্য জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করার ফলে আনুকূল্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তাদের জন্য প্রথম থেকেই। এ প্রসঙ্গে বলা আবশ্যক যে, ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় যেভাবে আধুনিকতার পথে অগ্রসরমান হয়েছিল, বিশেষত মুসলমানরা বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও, সেভাবে তাদের পক্ষে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়নি। এ জন্য কেবল মুসলিম সমাজের অর্থনৈতিক দুরবস্থাই যে শুধু দায়ী ছিল তা নয়। রক্ষণশীল মোল্লা-মৌলভীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বিরুদ্ধে প্রচার করছিলেন লাগাতারভাবে। এমনকি এই শিক্ষাকে তারা ‘হারাম’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে একসময় ঘোর আন্দোলন শুরু করে।