আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতায় সমাজচেতনা
DOI:
https://doi.org/10.66329/BAP.v68i2.5Abstract
বিশ শতকের শুরুতে অবিভক্ত বাংলায় যে বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্তশ্রেণির উন্মেষ ঘটে, সাতচল্লিশ-পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে তার দ্রুত বিকাশ ঘটে। বাংলাদেশের কবিতা এই নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির শৈল্পিক অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে তখন থেকেই। বিশেষ করে পাঁচের দশক বাংলা কবিতার বিকাশের ক্ষেত্রে একটি নতুন ভিত্তিভূমি। বিভাগ-পরবর্তীকালে ঢাকাকেন্দ্রিক সমাজজীবনকে কেন্দ্র করে যে কবিতার যাত্রাবিন্দু সূচিত হয় তার সফল বিস্তৃতি ঘটে এই দশকে। একদিকে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের নিষ্পেষণ, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত জীবনের নাগরিক যন্ত্রণা-বিক্ষুব্ধ সমাজ অভিঘাত পাঁচের কবিদের কাব্যসৃষ্টিতে প্রাধান্য পেয়েছে। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর (১৯৩৪-২০০১) কবিতার বিবর্তন এবং তাঁর ব্যক্তি চিন্তার বাঁক পরিবর্তন ঘটেছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পর সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী দুটি স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণে উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্যের সূচনা হয়। পূর্ব বাংলার কবিতায় তার সূদূরপ্রসারী প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতায়ও সমাজচেতনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে তার কবিতার ভাষা কোথাও বজ্রকঠিন স্লোগানে বন্দি হয়নি। স্পষ্টভাবেই তা প্রতিবাদের ভাষা, অধিকার আদায়ের ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাতনরী হার প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। সাতচল্লিশ-পরবর্তী সময়ের উত্তাল হাওয়ায় এই কাব্যটি রচিত। তাঁর পরবর্তী কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো : কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১), সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৯৩), খাঁচার ভিতর অচিন পাখি (১৯৯৩) এবং মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ (২০০২)। তাঁর কবিতায় অনুষঙ্গ হিসেবে এসেছে সমাজ, রাজনীতি, প্রেম, লোকায়ত সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য, স্বদেশপ্রেম প্রভৃতি বিষয়, যেখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে কবির দেশপ্রেম ও মনস্তাত্ত্বিক দর্শন।