ব্রিটিশ-ভারত প্রসঙ্গে অক্ষয়কুমার দত্ত : আর্থিক স্তর
DOI:
https://doi.org/10.66329/BAP.v68i2.9Abstract
অক্ষয়কুমার দত্তের (১৮২০-১৮৮৬) অর্ধশত মৌলিক প্রবন্ধ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। তাঁকে নিয়ে উপযুক্ত গবেষণা না হওয়ায়, তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে এই অগ্রন্থিত, অথচ মূল্যবান অংশের সংবাদ কেউ রাখেননি! এমনকি এই রচনাগুলো যে অক্ষয়কুমার দত্তের, এটা না-জেনে অনেকে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার নামে, প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন! এভাবে একজন অসামান্য প্রতিভাবান ব্যক্তির প্রাপ্য সম্মান সমষ্টির মধ্যে আরোপ করবার ফলে প্রকৃত ব্যক্তি বিলীন হয়ে গিয়েছেন! অজ্ঞতার ফল কখনো ভালো হয় না। দৃষ্টান্ত হয় না ইতিহাসের। সত্যকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করবার ফল ভয়ানক! অক্ষয়কুমার দত্তের এইসব রচনার বিষয়বস্তু কী ছিল? বলা চলে, তাঁর প্রতিভার অর্ধেকের পরিচয়ই পাওয়া যায় এইসব অগ্রন্থিত রচনার মধ্যে। এবং মতামতের দিক থেকেও তা এত মূল্যবান ও শক্তিমন্ত যে, আসল অক্ষয়কুমার যেন এর মধ্যে দীর্ঘকাল গুপ্তধনের মতো লুকিয়ে ছিলেন! রচনাগুলোর বিষয়-রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, রাষ্ট্রতত্ত্ব, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি। অক্ষয়কুমারের চিন্তা ও মনন যে কত সমৃদ্ধ, উন্নত ও প্রগতিস্পর্ধী ছিল, তা বেশ বোঝা যায় এই রচনাগুলো থেকে। এইসব রচনার মধ্যে বর্তমান প্রসঙ্গে, সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান প্রবন্ধ ‘পল্লীগ্রামস্থ প্রজাদিগে দুরবস্থা বর্ণনা ও ‘মনুষ্যজাতির মহত্ত্ব কিসে হয়?'। কৃষক-সম্প্রদায় যে আমাদের জীবনের সর্বপ্রধান আশ্রয়, এ কথা তিনি মুহূর্তের জন্যেও ভোলেননি। শহুরে ভদ্রলোক শ্রেণির সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ তত গভীর হয়নি, যত নিবিড়-ঘনিষ্ঠ হয়েছে গ্রামীণ কৃষক ও মেহনতি মানুষের সঙ্গে! আর্থিক ও সামাজিক সমস্যায় তাঁর যে বিচার-দৃষ্টি, সেটা গ্রামীণ আবহ থেকে শহরে প্রবেশ করেনি। শহরের ‘জৌলুস’ ছিল কৃত্রিম রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। মধ্যবিত্ত মন যে বিলাসিতা খোঁজে, এসব সেই মনের চোখ ধাঁধানো খোরাক। এই ভোগের পাত্র কানায় কানায় ভরে তোলায় ব্রিটিশ রাজনীতির যে তৎপরতা ছিল, এর সঙ্গে কৃষক-সমাজের কোনো যোগ নেই। ‘বঙ্গদেশ' যে অকল্পনীয় অভাব-অনটনের মধ্যে পড়েছিল ব্রিটিশ শাসনে, তিনি মনে করতেন, অর্থনৈতিক সুখ-সমৃদ্ধির দিক থেকে তা বিচারচার্য ছিল গ্রাম ও গ্রামীণ জনসাধারণের জীবন। এই দৃষ্টিবিন্দু থেকে তিনি সরে আসেননি কখনো।