সম্পাদকের কথা

Authors

  • মোহাম্মদ আজম Author

Abstract

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে শিশু-কিশোর সাহিত্য একদিকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে এ ধরনের সাহিত্য রচনা, উৎপাদন ও বিতরণের জটিলতাও তুলনামূলক বেড়েছে।

     প্রথমে কেন জটিল হয়ে উঠেছে, সে কথাটা বলা যাক।

আনন্দের উৎসের বাইরে আগের একাধিক শতকে দুনিয়াজুড়ে শিশু-কিশোর সাহিত্যের অন্যতম - - হয়ত প্রধান – প্রণোদনা ছিল শিক্ষাদান। শিক্ষা উদারনৈতিক মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে যেকোনো শিল্পচর্চারই অন্যতম যুক্তি হিসেবে কার্যকর ছিল; আর শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে তো এক অর্থে তা প্রধানই ছিল। নয়া উদারনীতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির এ কালে ওই শিক্ষামনস্কতা যথেষ্ট কমেছে। বাকি থাকে আনন্দ। অন্তত গত দু-দশক ধরে শিশু-কিশোরদের আনন্দের উৎস দুনিয়াজুড়ে যথেষ্ট মাত্রায় উৎপন্ন হচ্ছে, আর বৃহৎ জনগোষ্ঠীর হাতের কাছেই সেগুলো মজুত থাকছে। ফলে শিশু-কিশোররা সাহিত্যে আনন্দ বা উদযাপনের খোরাক খুঁজবে, সে বাস্তবতা এক অর্থে দুনিয়ায় আর আগের মতো নেই। চাহিদার এ ক্রমাবনতিই শিশু-কিশোর সাহিত্যের উৎপাদন, বিতরণ ও ভোগের চক্রকে এতটা জটিল করে তুলেছে। ঠিক একই কারণে এ কাজের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে। দৃশ্যমাধ্যমের উপলব্ধি বা অনুধাবনের প্রক্রিয়া একরকম, বইয়ের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে যে, শিশুদের অনুধাবন-প্রক্রিয়ার সম্যক বিকাশের জন্য পড়ে অনুধাবন করার অভ্যাস খুবই জরুরি। এমতাবস্থায় শিশু-কিশোর সাহিত্যের উৎপাদন, বিপণন ও ভোগের কাজটা জটিল হলেও জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বার্থের কারণে এর গুরুত্ব সম্ভবত আগের চেয়ে বেড়েছে। তাঁরা আসলে বৃহৎ যাঁরা এ ধরনের সাহিত্যকর্মে সময়, শ্রম ও প্রতিভা ব্যয় করছেন, জনগোষ্ঠীর জন্যই বড় দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জটাও আমাদের দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা খুব সহজে করে উঠতে পারবে না, কিংবা অনলাইন প্লাটফর্মগুলো যে পাঠ-উপাদান চট করে সরবরাহ করতে পারবে না, সে ধরনের পাঠ-উপাদানই লেখকদের তৈরি করতে হবে। একই সাথে ছবি ও অন্য দৃশ্যগত উপাদান যুক্ত করে সামগ্রিক উপস্থাপনায়ও সে চমৎকারিত্ব সঞ্চার করতে হবে, যা শিশু-কিশোরকে ভিন্নধর্মী আনন্দ-উপকরণের আশ্বাস দেবে। ভবিষ্যতে ধানশালিকের দেশ অংশত এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে অনলাইন সংস্করণ প্রস্তুত এবং অনলাইনের সুবিধাহেতু লেখা ও দৃশ্য – এ দুয়ের সমন্বিত উপস্থাপনার পরিকল্পনাও আমরা করছি। আশা করি, তাতে দেশের সচেতন অভিভাবকেরা কম বয়সীদের পাঠ ও বিনোদন-উপাদান হিসেবে ধানশালিকের দেশ-এর ওপর আরো বেশি নির্ভর করতে পারবেন। এ সংখ্যার লেখক, শিল্পী এবং সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানাই। পাঠকের জন্য আগাম শুভকামনা।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম

dgbanglaacademy@gmail.com

Downloads

Published

2025-09-30